কেমন আছিস টম ? টম বলে ডাকলাম দেখে রাগ করলি ?কি জানি । রাগ করলেও তো আর জানতে পারবোনা । তবুও , তমাল কে টম তো সবাই ডাকতো না , তাইনা ? আমি আর কয়েকটা মানুষ ই ডাকতাম । অবাক হচ্ছিস ? আমি এখনও কনফিউজ্ড আছি, এই চিঠি তুই পড়বিনা বা পাবিই না হয়তো । তাও লিখছি । যদি পেয়ে যাস , এটা ভেবে ।
তোর মনে পড়ে ? আমরা কখনও চ্যাট করেছি আগে ? ফেসবুকে ?না ? mig33 তে করেছিলাম , মনে পড়ে ?হুম্ , একদিনের জন্যই । যাই হোক , চ্যাট করি আর না করি , আজকে সাহস করে লেখতে বসেই গেলাম । তুইতো ফেসবুকে আমার ম্যাসেজের রিপ্লাইও দিসনা । তাও লিখছি ।
তোর মনে পড়ে , আমাদের পরিচয় যেদিন হল ? ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের সামনে ? তোরও ডিউটি ছিল , ছিল আমারও । কাজ শেষে রাতের শেষ ট্রেনটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম । চরম ভীড় সে রাতে । কার কার খেলা ছিল মনে নাই । মনে করেও কি লাভ । খেলা দেখার সুযোগ কি আর হয় । আমি এক এজেন্সি থেকে গিয়েছিলাম , তুই আরেকটা । তাতে কি , কাজতো একই । ফুটবল খেলার ব্রেক টাইমে স্টেডিয়ামের ভিতরের খাবারের দোকান গুলা থেকে বিয়ার আর স্ন্যাকস র্সাভ করা । বাংলাদেশের তো আরও অনেকে ছিল । কিন্তু সিগারেট ধরানোর আগুনের জন্য আমার কাছেই এসেছিলি তুই । লন্ডনে বসে বাংলাদেশের বেনসন ছিল তোর হাতে । আর আমি ? ¯প্যানিশ একটা সস্তা সিগারেট টানছিলাম । অনেকদিন হবে দেশী সিগারেট খাইনা , তাই হয়তো তোর সিগারেটের দিকে তাকিয়েই হাত টা বাড়িয়ে নিজের নামটা বলেছিলাম আগে । কে জানতো , হাতটা বাড়িয়েছিলাম আমার হতে যাওয়া সবচেয়ে কাছের বন্ধুটার দিকে ? আর কেই বা জানতো , আমি হয়তো তোর বন্ধুই হতে পারবোনা কখনও । আগে জানলে কি বন্ধুত্ব করতাম ? চিঠি লিখতাম ? হয়তো লিখতাম না । তাও লিখছি ।
মাসে স্টেডিয়ামে একটা দুইটার বেশী খেলা থাকতোনা । মাসে চার ঘন্টা করে আট ঘন্টার ওই কিছু পাউন্ডে কি লন্ডনে রুম ভাড়া করে থাকা যায় ? নাকি পেট ভরে খাওয়ার মতো কিছু ব্যবস্থা করা যায় ? হঠাত একদিন তোর ফোন আসলো আমার কাছে । সেইভ তো করি নাই আগে । তাই প্রথমে চিনিও নাই । কিন্তু যখন সেদিনের কথা বললি , তখনই মনে পড়েছিল । আমার দেশী । আমার দেশী বেনসন খাওয়া দেশী । ফোন দিয়েছিলি খোঁজ নেয়ার জন্য । দেখা করতে চাইলি । আমিও কাজ শেষ করে চলে আসলাম ট্রাফালগার স্কয়ারে । সেদিন তোর কাছে দেশী বেনসন ছিলোনা । কিন্তু ছিল গল্পের অনেক টপিক । অনেক । দ্বিতীয় দেখাতেই আমরা বন্ধু হয়ে গেলাম । অনেক ভালো বন্ধু হয়ে গেলাম । তুইতো আমার মতোই মিশুক ছিলি , হঠাত কি হল তোর ? ফেসবুকে লেখা ম্যাসেজ seen হয় ঠিকই , এখন আর উত্তর আসেনা । জানি , এই চিঠিটাও হয়তো পড়বি । হয়তো পড়বিনা । তাও লিখছি ।
আর কিছু মনে থাক আর না থাক , ম্যাডেলিনের কথাতো অবশ্যই মনে আছে তোর । আছে না ? জানিস , এখনও ওই মহিলার কথা মনে পড়লে হাসিও আসে , ভয়ও লাগে । কি মারাÍক মহিলা ছিলরে বাবা । তুই সময় মতো ওই বাসা না ছাড়লে ওই ল্যান্ডলর্ড তোকে ক্রিষ্টান বানায়েই ছাড়তো । আজকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি , তুই এতো গাধা ছিলি কেন রে ? ভাড়া দেয়ার টাকা নাই , পার্টটাইম চাকরী না থাকার মতো , সবই বুঝলাম , কিন্তু তাই বলে বাড়ির মালিক ধর্ম পাল্টাতে বললেই পাল্টায়ে ফেলবি ? গাধা । জানিস , যেদিন রাস্তায় তোর সব ব্যাগ ব্যাগেজ নিয়ে দাঁড়িয়ে আমাকে ফোন দিয়েছিলি , আমি মূলত খুশীই হয়েছিলাম । টেনশন ও ছিল , আমাদের বাসায় উঠবি ভালো কথা , কিন্তু ভাড়া দিবি কিভাবে । কিন্তু দেখতে দেখতে কাজ পেলি তুই ম্যাকডোনাল্ডস এ । আস্তে আস্তে টাকার প্রবলেম ও তো শেষ হয়ে যাচ্ছিলো । তো হঠাত করে পাল্টে গেলি কেন তুই ? সজীব তোর কথা জিজ্ঞেস করছিলো সেদিন । প্রায়ই করে । ও আর লন্ডনে থাকেনা এখন । আমি , তুই আর সজীব যে বাসায় থাকতাম , সেখান থেকে তুই চলে যাওয়ার পরে আমরাও বাসা পাল্টে ফেলি । অ্যারন কে বলে নর্থের দিকে বাসার ব্যবস্থা করেছিলাম একটা । তার কিছুদিন পরে ওয়েদারস্পুনে ছোট একটা জব পাই আমি । সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত দশটা । ক্যাশ মেইন্টেইন । সজীবের ভিসার টাইম শেষ । ও চলে যায় আয়ারল্যান্ডে । বেশীদিন থাকতে পারেনাই । দেশে চলে গেছে । তোকে নাকি ফোন দিয়েছিল কয়েকবার ? তুইতো হারায়েই গেলি দোস্ত ।
ভালো কথা , তোর বার্থডের কথা মনে আছে ? আজকে থ্যাংকস জানাচ্ছি । আমরা তো মজা করে খেতে বের হলাম । তোর ট্রিট । মিস তো করা যাবেনা । কিন্তু আজকে একটা কথা স্বীকার করছি , মাফ করে দিস । সেদিন তোর স্যুপে , তুই যেটা চাবাচ্ছিলি ঐটা আসলেই স্কুইড ছিল । আমি আর সজীব ইচ্ছা করে বলিনাই সেদিন । বাট তোর বোঝা উচিৎ ছিল । গাধা । কিন্তু টেনশন নিস্না । তুই তো স্কুইড খেয়েছিলি , অক্টোপাস তো খাস নাই । শোন্ , কখনও কোথাও মানে কোনও রেস্টুরেন্টে স্পেশাল আইটেম খুব বুঝে খেতে হয় । কিন্তু এই কথা গুলি কাকে বলছি ? তুই কি পড়বি এই চিঠি ?হয়তো পড়বিনা , তাও লিখছি ।
আন্টি কেমন আছে রে ? আন্টির জন্য যেই ভ্যাসেলিন আর ক্রিম গুলা পাঠিয়েছিলাম , দিয়েছিলি ? ইউজ করেছিলেন আন্টি ? জানালি ও তো না ? আচ্ছা টম , মানুষ মাতাল হলে নাকি মিথ্যা বলে না ? আমরা শনিবার রাতে যখন মাঝে মাঝে দুই তিন পেগ করে কিছু গিলতাম , কিছুখনের মধ্যেই অনেক বকবক করতি । বকবক করতাম আমিও । তুই তো বলতি তখন আমি তোর বেস্ট ফ্রেন্ড ? নাকি আমিই ভুল শুনতাম ? তাই হয়তো হবে । মাতাল থাকা অবস্থায় মানুষ কি বলে , কি শুনে , হুশ আসলে তো মনে থাকেনা দোস্ত । জানিস , আমার এখনও বিশ্বাস হয়না , তুই এভাবে চেঞ্জ হয়ে গিয়েছিস । কেন টম ? যাওয়ার সময় তোর প্লেনের টিকেটের অর্ধেক দামটা পর্যন্ত আমি আর সজীব মিলে দিলাম , আর আমাদের ফোন ই এখন ইগনোর করিস ?
জানিস , বার্গার দেখলেও এখন তোর কথা মনে হয় । তুই স্টাফ হিসেবে ম্যাকডোনাল্ডস থেকে ফেরার সময় যে বার্গার গুলা আনতি , অস্থির ছিল ওগুলো , অস্থির … মজার দুইটা বছর একসাথে কাটিয়েছি আমরা , তাইনা ? আসলে তোর টা জানিনা, কিন্তু আমরা ভালো ছিলাম । মানুষ lol বলতো , আর আমরা বলতাম lul মনে আছে ? লুঙ্গি উঠায়ে লাফিং ? হা হা হা হা …
তুই ইন্সটলমেন্টে যেই মোবাইল টা কিনেছিলি , নোকিয়া ই সিরিজের ? ওইটার বাকি পেমেন্ট আমি আর সজীব করে দিয়েছি । তোর বালিস আর ব্ল্যাঙ্কেট টা অনেক দিন আলাদা রেখেছিলাম । কিন্তু পড়ে আর সাথে নিয়ে ঘুরতে পারিনাই । জানিস , তোর কথাই ঠিক হল শেষ পর্যন্ত , হাই প্রেসার ধরা পড়েছে আমার ।
আর কি লিখবো বল্ ? আচ্ছা , ভাবী কেমন আছে ? বেশ কয়েক মাস আগে ফেসবুকে তোর বিয়ের ছবি দেখলাম । এখন তো আর কিছুই দেখা যায়না । ব্লক করে দিয়েছিস হয়তো । যাই হোক , আমার বউকে তোর কথা প্রায়েই বলি । আর স্কাইপে সজীব তার বউয়ের সাথে কথা বলার সময়ে মাঝে মাঝে পাশে থেকে মজা করতিনা ? ‘ভাবী , সারাদিন আপনার কথাই ভাবী ‘ , আমরা এখনও তোর এই ছড়াটা বলি আর হাসাহাসি করি । কেউই বিশ্বাস করেনা , করতে চায়না , হঠাত করে তুই এভাবে বদলে গিয়েছিস ।
পেটের মধ্যে অনেক কথা জমে আছে দোস্ত , কিন্তু বের হচ্ছেনা … আমার বার্থডের গিফট কিন্তু পাওনা আছে তোর কাছে .. মনে আছে ? আমরা প্ল্যান করতাম মাদাম তু’সোর জাদুঘরের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময়ে ? একদিন আমাদেরও মোমের মূর্তি হবে এখানে ?
যাই হোক দোস্ত … এই চিঠি তুই পড়বিনা বা পাবিই না হয়তো … আজকে শেষ করি আমার প্যাচাল । শুধু আমার আগের বার্থডের পাওনা গিফটটা চাই ? দিবি ? প্লিজ ?জানি , শুধু তুই-ই পারবি দিতে , টাকা খরচ হবেনা , দিবি ?
আমাকে শুধু একটা জিনিস শিখিয়ে দিতে হবে , as a gift ? দিবি শিখিয়ে ? আমাকে শুধু বল , অনেক মাতাল হয়েও মিথ্যা কিভাবে বলতে হয় , শিখাবি আমকে ? প্লিজ ? আমিও মিথ্যা বলতে চাই দোস্ত … তোর মতো …
আজকে এই পর্যন্তই …পারলে আমার গিফটটা আমাকে দিয়ে দিস … আন্টিকে বলিস আমার জন্য দোয়া রাখতে …
আর তুই ? তুই থাক তোর মতো …
টাটা …
ইতি ,
আচ্ছা , আমার নাম মনে আছে তো তোর ?