অনেক আগের কথা । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ । দেশে ধীরে ধীরে শুরু হয়েছে মানুষের ব্যবসার প্রসার । রাইমানের বাবা অনেক বড় ব্যাবসায়ী । বছরে বেশীরভাগ সময়েই দেশের বাইরে থাকেন । ক্লাস ওয়ানে পড়ে সে , সারাদিন স্কুল পড়াশোনা নিয়ে পড়ে থাকে, আর এদিক ওদিক সারাদিন বান্ধবীদের নিয়ে ঘুরে বেড়ানো হল তার আম্মু’র কাজ । ঘরে তিন চারটা কাজের লোক । রাইমানদের প্রতিবেশীরা তাদের মতো বড়লোক না । তাই তাদের বাচ্চাদের সাথে রাইমানের খেলা নিষেধ । বিকাল বেলা বাধ্য হয়ে ঘরের মধ্যেই আটকে থাকা লাগে তাকে ।
বেশ কিছুদিন হল বাসায় নতুন টেলিফোনের লাইন লেগেছে রাইমানদের । খুব অবাক লাগে রাইমানের । এই যন্ত্রটার মাথা থেকে তার লাগানো, বের হওয়া অংশটা হাতে নিয়ে কথা বলতে হয় । কানে লাগালেই ভিতর থেকে এক মহিলা খুব সুন্দর করে বলে , ” হ্যালো , নাম্বার প্লিজ ” , তখন তাকে নাম বা নাম্বার বলতে হয় । এরপর ঐ মহিলা সেই নাম্বারে কানেকশন দিয়ে দেয় । কিছুক্ষণের মধ্যে ঐ পার থেকে যার সাথে খুশি কথা বলা যায় । আম্মু ধরতে মানা করেছে এটা । বলেছে এটা নষ্ট হয়ে যাবে , আর একবার এটার কিছু হলে আব্বার সাথে আর কথা বলা যাবেনা । এই ভয়ে সে টেলিফোন ধরেনা কখনোই ।
আজকে সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে । আবহাওয়া কয়েকদিন থেকেই খুব খারাপ । আর বৃষ্টির কারনে আজকে স্কুলে যাওয়া হয়নি রাইমানের । তাই সকাল থেকেই মন খারাপ । স্কুলে গেলে তাও সময় কাটে , বন্ধুরা আছে । বাসায় তো কাজের লোক গুলা ছাড়া কেউ থাকেনা বেশিরভাগ সময় । আজকে আম্মুও বাসায় নাই । বিকালের মধ্যে চলে আসবে বলে গেছেন । দুপুরে রঙের কাঠ-পেন্সিল নিয়ে ছবি আঁকতে বসে রাইমান । সে মানুষের ছবি খুব সুন্দর করে আঁকতে পারে । চোখ, নাক, মুখ , ড্রেস, জুতা সবই সুন্দর আঁকে সে । শুধু বাকিরা মানে বন্ধুরা , আম্মু আর আন্টিরা সেই ছবি দেখে বুঝেনা এটা কার ছবি । সে খুব অবাক হয় । সেদিনও আঁকতে বসেছিল । তাঁর বাবার ছবি একেছিল । চোখে চশমা , কালো জুতা , ঠোঁটে পাইপ । আর সবাই তার মাথায় হাত দিয়ে বলেছিল , ” বাবা, কি সুন্দর , কি সুন্দর ছবি একেছো , কি এটা ? ” , এটা কোনও প্রশ্ন হল ? আমি কি এতোই খারাপ ছবি আঁকি ? – মনে মনে ভাবে রাইমান । আজকে সে রঙ পেন্সিল নিয়ে বসছে । আজকে গ্রামের দৃশ্য আকবে । সে গ্রাম কখনও দেখেনাই , তাও আঁকবে । যেই ভাবা সেই কাজ । প্রথমে কাগজে কিছু হাবিজাবি দাগাদাগি করে রঙ পেন্সিল নিয়ে বসে সে । সবুজ কাঠ পেন্সিল টা হাতে নিয়ে দেখে মুখটা ভোতা হয়ে গেছে । ” জাহাঙ্গীর কাকা , জাহাঙ্গীর কাকা , আমার পেন্সিল টা কেটে দাওনা … ” , রাইমানদের বাসার বাবুর্চির নাম জাহাঙ্গীর । কিছুক্ষণ ডাকাডাকির পরও জাহাঙ্গীর কাকা জবাব দিলোনা দেখে অন্য রুমে বাকিদের খুঁজতে গেল সে । বাসায় এতোগুলা কাজের লোক । আর এখন কেউ নাই । মাকসুদা বুয়া ঘুমাচ্ছে । অসুস্থ । সঞ্জয় নামের ছেলেটা খুবই ফাঁকিবাজ । আম্মু বাইরে গেলে সেও হাওয়া হয়ে যায় । বাইরে বাইরে ঘুরে । আরেক জন কাজের লোক আছে । তার নাম মনে নাই ।
কাউকে না পেয়ে বাধ্য হয়ে নিজেই ব্লেড খুজতে লাগলো রাইমান । পেয়েও গেলো পুরানো একটা ব্লেড । আগে কখনও পেন্সিল এভাবে শার্প করেনাই সে । কিন্তু বড় হচ্ছে সে , যেটা কখনও করেনাই সেটা যে কখনই করবেনা , তা তো না । তাই সে এক হাতে সবুজ ভোতা পেন্সিল আর আরেক হাতে ব্লেড নিয়ে কাজে লেগে পড়লো । প্রায় অনেকক্ষণ চেষ্টার পর মোটামুটি একটু চোখা হয়েছে পেন্সিলের মুখ । অন্য কেউ ওর হাতে ব্লেড দেখে ফেলবে , এই ভয়ে আগে সে ব্লেড টা রেখে আসতে যায় যেখান থেকে এনেছিল । রান্নাঘরের পাশের একটা ড্রয়ার থেকে বের করেছিল সে ব্লেডটা । বিপত্তি ঘটলো রাখতে যেয়ে । হাত ড্রয়ার থেকে বের করার সময় ড্রয়ারের কাঠের কোণায় লেগে হাতের এক পাশে অল্প একটু ছিলে গেল রাইমানের । খুবই সামান্য । কিন্তু তাতেই ভয় অস্থির হয়ে গেল সে । আম্মু জিজ্ঞেস করলে কি বলবে । এদিকে হাতে একটু একটু করে জ্বালাপোড়া বাড়ছে । ” জাহাঙ্গীর কাকা , জাহাঙ্গীর কাকা , কতক্ষণ ধরে ডাকছি , কোথায় তুমি ? আমার হাত কেটে গেছে , তাড়াতাড়ি আসো ” , এবারও জবাব দিলোনা । রাইমান এদিক ওদিক হাটাহাটি করতে লাগলো । হঠাৎ তার চোখ পড়লো বাসায় আনা নতুন টেলিফোনটার দিকে । কি যেন ভাবলো সে , দৌড়ে গেলো সেদিকে । রিসিভার টা উঠিয়ে কানে লাগাতে না লাগাতে কে যেন বললো , ” হ্যালো, নাম্বার প্লিজ ” । একটু হকচকিয়ে গেলো রাইমান । সাথেসাথেই বলতে থাকলো , ” আমার হাত কেটে গেছে , এখন কি করবো ? ”
ফোনের অপর প্রান্ত চুপচাপ । রাইমান কিছুক্ষন পর বলে আবার বললো , ” আমার হাত জ্বলছে , বলোনা , এখন কি করবো ? ”
এবার জবাব এলো অপর প্রান্ত থেকে , ” তোমার বাসায় কেউ নেই ? ”
” আছে , আছে , মাকসুদা বুয়া খালা ঘুমাচ্ছে , খুব অসুস্থ , জাহাঙ্গীর কাকাকে পাচ্ছিনা , রান্না ঘরে নাই , বাকিরাও ঘরে নাই ”
” তোমার আম্মু আব্বু বাসায় কেউ নাই ? ”
” উহু … আব্বু বিদেশ গেছে , আম্মু বাইরে , সন্ধ্যায় আসবে , হাত জ্বলছে , বলোনা কি করবো ? ”
” হাত কিভাবে কেটেছো ? রক্ত পড়ছে ? ”
” না , রক্ত পড়ছে না , কিন্তু জ্বলছে অনেক , উফফ , মনে হচ্ছে এখুনি রক্ত পড়বে , ড্রয়ারের কোণাটা হাতে লেগেছে ”
” আচ্ছা , তাহলে এক কাজ করো , বাথরুমে যেয়ে একটু পানি দিয়ে ঐ জায়গাটা আস্তে আস্তে ধুয়ে ফেল । একটু জ্বলবে প্রথমে , পরে ঠিক হয়ে যাবে , ঠিক আছে ? ”
” আচ্ছা , আচ্ছা , রাখি রাখি , আমি জানি এটা ” খুব তাড়াহুড়া করে বললো রাইমান , ” আমি রাখি , আম্মু জিজ্ঞেস করলে বলবা না কিন্তু , আম্মু রাগ হবে । ” বলেই অপর প্রান্তের উত্তরের অপেক্ষা না করে রিসিভার রেখে দিল রাইমান ।
তারপর বাথরুমে গেল , বালতি থেকে মগে করে পানি নিয়ে হাতের ছিলে যাওয়া জায়গাটায় আস্তে আস্তে লাগালো । প্রথমে চিৎকার মারলো ঠিকই , পরে টের পেল যে , ব্যপারটা যতটা ব্যথার মনে করেছিল , ততোটা আসলে না । হাতটা মুছে সে আবার গেল ফোনের কাছে । রিসিভার উঠিয়ে কানে লাগালো , আবারো একই ভাবে অপর প্রান্ত থেকে সুন্দর করে একজন বলে উঠলো , ” হ্যালো , নাম্বার প্লিজ ”
” হ্যালো , আমার হাত ব্যথা কমে গেছে , থ্যাংকস , ” বলল রাইমান
” ও , তাই ? খুব ভালো কথা ”
” আচ্ছা শুনো , আম্মুকে কিন্তু বলবা না , ঠিক আছে ? ” কথার মাঝে বলে উঠে রাইমান ।
” ঠিক আছে , বলবো না , তবে শর্ত আছে ” বলতে থাকেন অপর প্রান্তের সুকন্ঠি ।
” শর্ত ? ” অবাক হয় রাইমান , ” কি শর্ত আবার ?”
” না , আগে বলো , যা বলবো , তা শুনবা ? তাহলে আমি তোমার আম্মুকে বলবো না ”
” ঠিক আছে , শুনবো ” কাঁচুমাচু হয়ে বলে রাইমান ।
” শর্ত হচ্ছে , আর কখনও দুষ্টুমি করবা না , আর মন দিয়ে পড়াশুনা করবা ” বলতে থাকেন তিনি , ” ঠিক আছে ? ”
” ঠিক আছে ” কথা গুলি পছন্দ না হলেও মাথা ঝাকিয়ে উত্তর দেয় রাইমান ।
” ঠিক আছে , আচ্ছা , তোমার নাম ই তো জানা হলনা ? ”
” আমার নাম রাইমান , আর তোমার ? ” সাথে সাথে প্রশ্ন করে সে ।
ছোট একটা মুচকি হাসির আওয়াজ আসে ওপার থেকে , ” আমার নাম নেই , ঠিক আছে রাইমান , ভালো থাকো , ফোন রাখছি ”
” আরে দাড়াও , দাড়াও ” তাড়াহুড়া করে বলে উঠে রাইমান, ” তুমি আমার বন্ধু হবা ? এখানে আমার কোনও বন্ধু নাই ”
” বন্ধু ? ” আবারও হাসির আওয়াজ পাওয়া যায় ওপার থেকে
” না বলো তুমি আমার বন্ধু হবা ? ” একই কথা আবার বলা শুরু করে রাইমান , ” নয়তো আমি ফোন রাখবো না ”
” আচ্ছা ঠিক আছে , বন্ধু হলাম তোমার , খুশি ? এখন ফোন রাখো ? ঠিক আছে ? ”
” ঠিক আছে , ঠিক আছে , রাখি তাহলে , টাটা ” খুব খুশি হয় রাইমান । হাসি মুখে ফোন রাখে ।
এভাবে আস্তে আস্তে ফোনের ওপারের এক আওয়াজের সাথে অনেক ভালো একটা বন্ধুত্ব করে ফেলে রাইমান । স্কুল থেকে এসে একটু সময় পেলেই রিসিভারটা তুলে ধরে সে , ওপার থেকে ‘ হ্যালো , নাম্বার প্লিজ ‘ এই স্বরটা শোনার পরেই শুরু হয় তার রাজ্যের প্রশ্ন।
“হ্যালো , আমার পড়ার টেবিলের নিচে তেলাপোকা আসছে , এখন কি করবো ? ”
” হ্যালো , গোসলের সময়ে হাত থেকে আমার সাবান পিছলে পাইপ দিয়ে চলে গেছে , এখন কি করবো ? ”
” হ্যালো , আমি মানুষের ছবি আঁকলে কেউ বুঝতে পারেনা , আমার আঁকা কি এতো খারাপ ? বলো ? ”
” হ্যালো , আব্বুর মতো আমি শেভ করবো কবে বলো ? ”
এরকম হাজারটা প্রশ্ন রাইমানের মনে প্রতিদিন আসে । এখন আর সে বন্ধুর অভাব বোধ করেনা । তার অনেক ভালো একটা বন্ধু আছে । খুব সুন্দর করে হাসে সেই বন্ধু , খুব সুন্দর সুন্দর গল্প বলে সে বন্ধু ।
দেখতে দেখতে কয়েক বছর কেটে যায় । আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে রাইমান । তার আব্বু আম্মু তাকে হোস্টেলে পাঠানোর কথা ভাবে । একদিন হুট করেই ওর হোস্টেলে যাওয়ার সব ব্যবস্থা হয়ে যায় । তাড়াহুড়ায় আর বাবা মা’র সামনে লজ্জায় ফোনে নিজের বন্ধুর কাছ ত্থেকে বিদায় নিতে পারেনা সে ।
দিন যেতে থাকে , মাস যেতে থাকে , আস্তে আস্তে বছর ও পার হতে থাকে । রাইমানের বাবা মা এখন নতুন বাসা নিয়েছে । রাইমান হোস্টেল থেকে এসে বেশিদিন থাকলোনা বাসায় । তাকে এবার পাঠিয়ে দেয়া হল বিদেশে । ডিগ্রীর জন্য । আবারও সময় বইতে থাকে সময়ের স্রোতে ।
(দশ বছর পরের কথা)
দেশে এসেছে রাইমান । সাথে তার নতুন বউ । বাবা মা’র সাথে বেশ কিছুদিন সময় কাটিয়ে বউকে নিয়ে তাদের আগের বাসার দিকে যাবে ভাবলো । তার বউকে নিয়ে যেতে চাইলো সেই বাসায় , যেখানে তার ছোটবেলা কেটেছে ।
আগের বাসাটা আগের মতোই আছে । শুধু বাইরের দেয়ালের রঙ এ একটু বয়সের ছাপ পড়েছে । এ বাসা এখন রাইমানদের কেয়ারটেকার দেখাশুনা করে । মাঝে মাঝে ছুটির দিনে তার আব্বা আম্মা চলে আসেন এখানে । এদিক ওদিক এটা সেটা দেখাতে দেখাতে হাতে ছোট্ট হ্যান্ড লাগেজ সহ বউ কে বাসার ভিতরে ঢুকল রাইমান ।
“কেমন আছো কাকা ? ” হাসিমুখে জিজ্ঞেস করলো কেয়ারটেকার কে । কিন্তু উত্তরের অপেক্ষা না করে গটগট করে এদিক ওদিক তাকিয়ে ভিতরের দিকে যেতে শুরু করলো । যেন কিছু খুঁজছে ।
হঠাৎ পুরানো টেলিফোনের টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো সে । অনেকক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকলো । তারপর আস্তে করে রিসিভার টা উঠিয়ে কানে ধরলো সে । চোখ বন্ধ করে অপেক্ষা করতে থাকলো পরিচিত কোনও আওয়াজের ।
“হ্যালো , নাম্বার প্লিজ ” আওয়াজ ভেসে আসলো অপর পার থেকে।
চমকে চোখ খুলে ফেললো রাইমান , না , এটা তার পরিচিত আওয়াজ না , যে আওয়াজ সে খুঁজছে , সেটা তার মুখস্ত । এটা সেই আওয়াজ না । কি জানি ভাবলো সে , হঠাৎ বলে উঠলো , ” আমার লাগেজের হ্যান্ডেল টা ভেঙ্গে গেছে , এখন আমি কি করবো ? ”
অপর প্রান্ত থেকে কোনও আওয়াজ এলোনা কিছুক্ষন । আবারও জিজ্ঞেস করলো রাইমান , ” আমার লাগেজের হ্যান্ডেল টা ভেঙ্গে গেছে , বলোনা , এখন আমি কি করবো ? ”
এবার ঐ প্রান্ত থেকে ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় কথা ভেসে এলো , ” আপনি কি রাইমান বলছেন ? ”
খুশিতে চিকচিক করে উঠে রাইমানের চোখ । ” জী , জী , আমি রাইমান বলছি , মানে , আমি ছোটবেলায় এইখান ফোন দিতাম, আর আমার এক বন্ধু ফোন ধরতো , তাকে একটু দিননা , প্লিজ ? ” এক নিঃশ্বাসে বলে রাইমান , ” আর , আপনি আমার নাম কিভাবে জানলেন ? ”
হু হু করে কান্নার আওয়াজ ভেসে আসে ওপার থেকে , ” আপনি যার কথা বলছেন , তার নাম সুবর্ণা , সে আমার কলিগ , সে গত বছর মারা গেছে ”
“মানে , মারা গেছে মানে কি ? আপনি প্লিজ তাকে দেন ” গলার স্বর কেপে উঠে রাইমানের ।
“সুবর্ণা আমাকে আপনার কথা সব বলেছে । সে এতোটা বছর আপনার ফোনের অপেক্ষা করেছে , শেষ পর্যন্ত সে পাগলের মতো হয়ে গিয়েছিলো ” বলে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে রিসিভারের ঐ প্রান্তের মহিলা ” কিন্তু সে বলতো , রাইমান একদিন আসবে , আর আজকে এসেছে রাইমান , আজকে এসেছে”
রিসিভার টা আর ধরে রাখতে পারেনা রাইমান । হাত থেকে পড়ে যায় । ধুপ করে বসে পরে মেঝের কার্পেটের উপর ।